আহসান উল্লাহ খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ছোট বেলা থেকেই দেশের প্রতি আমার মায়া ভালোবাসার কমতি ছিলো না। সড়ক আন্দোলন আমার জীবনের ১ম আন্দোলন ছিলো। এ ছাড়াও করোনা সহ দেশের বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
২০২৪ এ কোটা আন্দোলনে যখন আমার ভাই বোনদের গায়ে হাত উঠলো তখন নিজেকে থামিয়ে রাখতে পারিনি। বাসায় নিজের হাজবেন্ড, ভাই পরিবারের সবাই এক এক করে যোগ দিয়েছে তখন মনে হচ্ছিলো আমি কেনো বসে থাকবো?মরতে তো হবেই তাহলে ভিতুর মতো ঘরে বসে কেনো?
১০মাসের ছেলে সন্তান কে বাসায় মায়ের কাছে দিয়ে মিথ্যা বলে বের হয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিদিন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং পতাকার মিশ্রণে একটি টি শার্ট গায়ে রাখতাম যেন মরে গেলে পরিবারের লাশ শনাক্ত করতে সহজ হয়। একদিকে ছোট্ট শিশু অন্যদিকে মায়ের চেহারার দিকে তাকাতে পারতাম না। পুরো আন্দোলনে সবচেয়ে সাহস আমাকে আমার আম্মু যোগাইছে।আম্মুর তিন সন্তান ঘরের বাহিরে আম্মু বাসায় বসে নফল নামাজে প্রহর গুনেছে এই বুঝি সন্তানরা ফিরবে।
জুলাই সহজ ছিলো না। বিশেষ করে ১৮ জুলাই রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল উত্তরায়। এর মাঝেও ছিল আল্লাহর উপর তীব্র ভরসা ভরসা। হাসিনা পালিয়েছে শোনার পর সিজদায় লুটায় পড়ছিলাম আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে। কিছু চাওয়ার নাই শুধু শহীদ পরিবারের মানুষগুলোর প্রতি সরকারের দৃষ্টি এবং দ্রুত বিচার।
মুশফিকা রহমান
জুলাই যোদ্ধা (উত্তরা)