শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়ায় চুরির অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে জামগড়া বেরন মোল্লা বাজার এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সনাক্ত করার পর তাদের আটক করা হয়। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা সোহেল (১৮) ও রবিউল (৩০) তারা উভয়ই জামগড়া মোল্লা বাজার এলাকায় পৃথক দুটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে গত এক সপ্তাহ ধরে জামগড়া বেরন মোল্লা বাজার এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে সিলিং ফ্যান, টিভি, মোটরের তার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি হচ্ছিল।
সর্বশেষ গত (২৯ জুন) রাতে স্থানীয় একটি প্রজেক্টের মালামাল চুরি হলে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন স্থানীয়রা। ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের সনাক্ত করার পর একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয় জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির বিষয়টি স্বীকার করলে থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ তালেব সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করেন।
ভুক্তভোগী সুমন (৩০) জানান, গ্রেফতারকৃত চোর চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জামগড়া বঙ্গ মার্কেটের টিভি মেরামতকারী রানা এবং ছয়তালা হাউজিং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে অবস্থিত মোঃ মগবুলের ভাঙাড়ির দোকানে কম দামে চোরাই মালামাল বিক্রি করে আসছিল।
এ বিষয়ে ভাঙাড়ি দোকানদার মগবুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চোরের কাছ থেকে মালামাল কেনার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে চোরাই মালামাল নিয়ে আসলে আমি সেগুলো কিনে নিতাম। সবাই কিনলে আমিও কিনব, চোরের মাল তাতে কী হয়েছে।
ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীর এমন অবিবেচকের মতো মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, এই ভাঙাড়ির দোকানে এর আগেও বহু চুরির মালামাল কেনাবেচা হয়েছে। চোরাই মাল কেনায় উৎসাহিত করার অপরাধে ওই ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার (তদন্ত) ওসি মোঃ আজগর আলী বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।