খবর বিজ্ঞপ্তিঃ সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। উক্ত প্রতিবেদনে আমার সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অসত্য তথ্য শুধু আমার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেনি, বরং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
প্রথমত, প্রতিবেদনে আমাকে জনাব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও মনগড়া। বাস্তবতা হলো, তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না এবং আমিও জীবনে কখনো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি কিংবা কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখিনি। বরং বাস্তব পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার ছোট ভাই মোল্লা বশির আহমেদ পান্না, যিনি আগৈলঝাড়া উপজেলার বিএনপির সদস্য সচিব, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে এলাকায় গেলে তাকে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর প্রভাবেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি প্রায় এক মাস কারাভোগ করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার সঙ্গে আমার কোনো সুসম্পর্ক থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
দ্বিতীয়ত, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মাস্ক বিতরণ সংক্রান্ত বিষয়েও প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, কোম্পানির পক্ষ থেকে যে পরিমাণ মাস্ক প্রস্তুত করা হয়েছিল, তার সবই যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই না করেই এমন সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল।
এছাড়াও, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রসঙ্গে আমার নাম জড়ানো হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযৌক্তিক। যদিও অতীতে আমি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইডিআরএ’র সদস্য হিসেবে সফলতার সঙ্গে পূর্ণ এক মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছি এবং দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর ধরে বীমা খাতে কাজ করে আসছি, তথাপি বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের বিষয়ে আমি নিজে থেকে কোনো প্রকার আবেদন, সিভি জমা বা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। তবে আইডিআরএ আইন ২০১০ অনুযায়ী আমি যোগ্য প্রার্থী, প্রাসঙ্গিক যোগ্যতার কারণে কেউ আমার নাম প্রস্তাব করতে পারে—এটি স্বাভাবিক বিষয় হলেও, তা আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয়নি।
উল্লেখ্য, অতীতেও আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বা সদস্য পদ শূন্য হলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সরকারি সংস্থাগুলো আমার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে আমার নিজ এলাকা আগৈলঝাড়ায় যায়। সে সময় তারা আমার পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে আমার ছোট ভাই পান্নার রাজনৈতিক পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করে। একই সময়ে, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ প্রভাবের কারণে আমার আপন ভাগিনা আমিন মোল্লা এবং আমার ছোট ভাই পান্নার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং তাদের উভয়কেই কারাগারে পাঠানো হয়। তারা প্রায় এক মাস কারাভোগ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হন, যা ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে আমার সঙ্গে উক্ত ব্যক্তির সুসম্পর্ক বা আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বিভ্রান্তিকর।
আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও যাচাইবিহীন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকা হোক। একই সঙ্গে, প্রকাশিত এই ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের জন্য যথাযথভাবে দুঃখ প্রকাশ ও সংশোধনী প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা