শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, আজিজুল সহ কয়েকজন নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাঁড় করিয়ে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে মেয়েটির কাছ থেকে অর্থ ও অলংকার আদায়ে ভূমিকা রেখেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনার পর আজিজুল ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে আশ্বাস দেন যে, তিনি বিষয়টি সমাধান করবেন এবং অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে সম্পন্ন করবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে পরিবারটি মানসিকভাবে ভরসা পায় এবং সামাজিক চাপের মধ্যে পড়ে তার পরামর্শ মেনে চলতে থাকে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, আজিজুল বারবার বলেন – “আমি আছি, দাও, কোনো সমস্যা নাই। যা হইছে হইছে, তোমার সাথে এই ছেলের বিয়ে আমি করিয়ে দেব।” এই আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি মেয়েটির অলংকার ও নগদ অর্থ ধর্ষকের হাতে তুলে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা নেওয়া হয়।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর জানা যায়, অভিযুক্ত যুবক পলাতক। তখন আজিজুল দায় এড়িয়ে যান এবং পূর্বের প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন করেননি। এতে করে ভুক্তভোগী পরিবার দ্বিগুণ ক্ষতির শিকার হয় – একদিকে ধর্ষণের শিকার, অন্যদিকে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অর্থ ও সম্পদ হারানো।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে মূল অভিযুক্তের পাশাপাশি আজিজুলের বিরুদ্ধেও সহযোগী হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, যার কোনো ধরনের আপস বা মীমাংসা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এ ধরনের ‘মীমাংসা’র নামে প্রভাব খাটানো, ভুক্তভোগীকে বিভ্রান্ত করা এবং অর্থ আদায় করা – সবই দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, আজিজুলের মতো ব্যক্তিরা সমাজে বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং অপরাধীদের রক্ষা করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।