আলী আহসান রবি :
সিলেট, ০১ চৈত্র (১৫ মার্চ):
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা–সিলেট ও সিলেট–চট্টগ্রাম ছয় লেন সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আজ (রবিবার) সিলেট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে সাময়িক যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল, তা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে টয়লেট, বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে।
পরে মন্ত্রী সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিক আবু তুরাবের কথা স্মরণ করে বলেন, তুরাব যেদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, সেদিন একই মিছিলে আমিও ছিলাম। আমার পাশেই থাকা তুরাব সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। হাজারো জুলাই যোদ্ধার আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ নতুন বাংলাদেশকে বর্তমান সরকার গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। যতদিন এ দেশ থাকবে, ততদিন তাদের এই আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে যায়নি, আমরাও আপনাদের কথা বিস্মৃত হইনি। আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ পরিবারগুলো আমাদের শক্তির উৎস। আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের সীমাবদ্ধ সক্ষমতার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চটুকু নিয়ে পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।
ইফতার মাহফিলে বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মুশফেকুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।