সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতায় মানবিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মানবতার হাসি সাহিত্য সংসদ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা। সংগঠনটির উদ্যোগে জেলার শীতপ্রবণ এলাকার হতদরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল চারটার সময় সিরাজগঞ্জ শহরের মুক্তার পাড়া বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কনকনে শীতে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আয়োজিত এই মানবিক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার (ডিডিএলজি); জনাব গণপতি রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক); জনাব মোঃ আব্দুল বাসেত, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মানবতার হাসি সাহিত্য সংসদের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, “শীত মৌসুমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে থাকে। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। মানবতার হাসি সাহিত্য সংসদ যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। জেলা প্রশাসন সবসময় এ ধরনের মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে যাবে।
বিশেষ অতিথিরাও তাদের বক্তব্যে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলকে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে শীতের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে।
মানবতার হাসি সাহিত্য সংসদের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, “মানবতার হাসি সাহিত্য সংসদ সবসময় মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে কাজ করে। শীতার্ত মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোই আমাদের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও আমরা শিক্ষা, সাহিত্য ও মানবসেবামূলক নানা কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দের হাত থেকে শীতার্ত দরিদ্র, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতকালীন কম্বল বিতরণ করা হয়। কম্বল পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক চেতনা জাগ্রত করবে এবং শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।