মো: সোহেল তালুকদার, পটুয়াখালী :
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এ প্রক্টরের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে গিয়ে ৫ হাজার ছাত্র হত্যার হুমকি প্রদানের কারনে এবং ডিজিএফআই ও এনএসআইকে আন্দোলনকারী ছাত্রদের তথ্য প্রদান হুমকি প্রদানের কারনে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ড. সন্তোষ কুমার বসু ২০২৪ সালের জুলাইতে পবিপ্রবির আবাসিক হল থেকে ছাত্রদেরকে জোরপূর্বক বের করে দেয়ার চেষ্টা চালান। একই দিন একটি হলে গিয়ে ছাত্রদেরকে বলেন, “যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং আওয়ামি লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় প্রয়োজন হলে সরকার ৫ হাজার ছাত্রকে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করবে না। তোমাদের সকল তথ্য এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের কাছে দেয়া হয়েছে। তোমরা নিজেদের ভালো চাইলে হল ছেড়ে দিয়ে বাসায় চলে যাও।”

গতবছর কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন গত ১৭ জুলাই ২০২৪ রাত ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল আবাসিক হল গুলো বন্ধের নোটিশ দেয় এবং ছাত্রদেরকে হল ছাড়তে বাধ্য করে। ছাত্ররা প্রতিবাদ জানিয়ে হল না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে তৎকালীন প্রক্টর ড. সন্তোষ কুমার বসু ছাত্রদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়। ৩১ জুলাই হল সিলগালা করার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেরামত আলী হলে গিয়ে ৫ হাজার ছাত্র হত্যার হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
গতবছর নভেম্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও অভিযোগের ভিত্তিতে জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের শাস্তি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। সেই স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ পর্যালোচনা করার জন্য ও অধিকতর স্বচ্ছ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিপন্থি কাজের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীর সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি ২ এর (ছ) ধারা মোতাবেক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইকতিয়ার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বিষয়টি জানানো হয়। একই সাথে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না এ মর্মে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত জবাব প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য ড. সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের দায়িত্বপালনের সময়ে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার সহ আরো ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ পদে একাই বসে ছিলেন ড. সন্তোষ কুমার বসু। নিয়োগে অনিয়ম, ছাত্রদের সাথে দুর্ব্যবহার, দুর্নিতী, স্বজনপ্রীতিসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাবেক ভিসি স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের আস্থাভাজন ব্যক্তি হয়ে একসাথে সকল প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে কায়েক করেছেন ফ্যাসিবাদ।