ফারজানা ফারাবী, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত হলো এক অনুপ্রেরণামূলক ও মনোমুগ্ধকর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান। ৯ নভেম্বর ২০২৪, শনিবার ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে সম্মান জানাতে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রশাসন, শিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহিদী। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে শুধু পরীক্ষার ফল নয়, চরিত্র, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও ভবিষ্যৎ সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশগঠন ও মানবিক মূল্যবোধে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) জনাব ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। তিনি তরুণ-তরুণীদের উদ্ভাবনী শক্তি, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা এবং আধুনিক দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক জনাব মফিদুল আলম, যিনি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আবু তাহের, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রিয়াদ তানসেন, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন মোসা. তসলিমা বেগম, এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মো. জাফরুল্লাহ কাজল। প্রত্যেকেই শিক্ষার্থীদের জীবনের বিভিন্ন ধাপে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সময় ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক জনাব হারুনুর রশিদ। তিনি তরুণ প্রজন্মের সাফল্যকে দেশের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে বলেন, “প্রতিটি কৃতী শিক্ষার্থীই দেশের সম্পদ—এদের হাতেই এগিয়ে যাবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।”
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্যও ছিল গর্ব ও আবেগের এক মুহূর্ত। নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রতিশ্রুতি এবং আত্মবিশ্বাসের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে শেষ হয় এই বর্ণিল সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান।