বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
কোন দপ্তরে ৮ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বদল   প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই মানোন্নয়নে জোর: নিবিড় তদারকির ঘোষণা প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলে সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে …স্বাস্থ্য মন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সুইজারল্যান্ডের আগ্রহ বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হোমনার মনিপুরে তিনজনকে জবাই করে মারার বিচার না পেয়ে পরিবারের বিক্ষোভ মিছিল উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে ইউজিসিকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান কক্সবাজার চাঁদাবাজ- দখলদারদের জায়গা নেই অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ পুলিশের ভাবমূর্তি কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ করা যাবে না —-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় অস্ত্র-গুলিসহ চারজনকে গ্রেফতার

পরনিন্দা, গীবত ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টির নিষেধ: কোরআন ও হাদিসের গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ

ফারজানা ফারাবী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২২৪ বার পড়া হয়েছে

ফারজানা ফারাবী, ধর্মীয় ডেক্সঃ ইসলাম মানুষের মর্যাদা, চরিত্র এবং সামাজিক স্থিতির ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। ব্যক্তিক জীবন, পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় রাখতে কোরআন ও হাদিসে কিছু বিধান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার মধ্যে পরনিন্দা (গীবত) এবং মানুষের মাঝে দ্বন্দ্ব ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করা অন্যতম নিন্দনীয় অপরাধ। ইসলামী শরিয়তের আলোকে এসব অপরাধ কেবল নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং ঈমানের বিরুদ্ধেও যায়। গবেষণাধর্মী দৃষ্টিতে এসব বিষয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—ইসলাম এ বিষয়ে কত কঠোর এবং কেন কঠোর।

গীবতের ভাষাগত ও শরয়ী সংজ্ঞা

আরবি শব্দ “غِيبة (গীবাহ)”—এর মূল অর্থ হলো অনুপস্থিতিতে কারো ত্রুটি উল্লেখ করা। হাদিসে রাসূল (সা.) গীবতের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় নবী (সা.) বলেন:

> “তোমরা জানো গীবত কী?”
সাহাবারা বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।”
তিনি বললেন:
“গীবত হলো—তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে।”
কেউ জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রাসূল! যদি ঐ কথা তার মধ্যে সত্যিই থাকে?”
তিনি বললেন:
“যদি তার মধ্যে থাকে, তবে তুমি গীবত করলে; আর যদি না থাকে, তবে তুমি মিথ্যে অপবাদ দিলে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৯)

এই সংজ্ঞা থেকে সুস্পষ্ট—গীবত সেই কথাকেও বলা হয়, যা সত্য। আর সত্য না হলে তা হয়ে যায় বুহতান বা অপবাদ, যা আরও বড় অপরাধ।

কোরআনে গীবতের ভয়াবহতা

কোরআনে গীবতকে এমন একটি জঘন্য কাজের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা মানুষের স্বভাবত ঘৃণার বিষয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন—

> “তোমরা কেউ যেন অন্যের গীবত না করো। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে? তোমরা অবশ্যই তা ঘৃণা করবে।”
(সুরা হুজুরাত, ৪৯:১২)

গবেষকদের মতে, এই উপমা মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব কতটা পবিত্র—তা বোঝানোর জন্যই দেওয়া হয়েছে। জীবিত মানুষের সম্মানহানি যেন মৃতদেহ ছিঁড়ে খাওয়ার মতোই নিকৃষ্ট।

নামিমা (চোগলখোরি): দ্বন্দ্ব সৃষ্টির বড় পাপ

গীবতের চেয়েও ভয়াবহ একটি অপরাধ হলো—নামিমা, অর্থাৎ মানুষের মাঝে বিরোধ, মনোমালিন্য, হিংসা ও ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কথার অপব্যাখ্যা, বিকৃতি বা বদনাম ছড়ানো। হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন—

> “চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৫)

আরেক বর্ণনায় আছে—

> “মানুষের মাঝে যে ব্যক্তি বিরোধ সৃষ্টি করে (নাম্মাম), সে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি।”
(বুখারি: আল-আদবুল মুফরদ)

এ থেকে বোঝা যায়—দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা শুধু সামাজিক নয়, বরং আধ্যাত্মিক ধ্বংসেরও কারণ।

গীবতের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি: গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

১. বিশ্বাসহীনতা বৃদ্ধি: সমাজে পরস্পরের প্রতি আস্থা কমে যায়, ফলে পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
২. সম্পর্কের ভাঙন: গীবত ও নামিমার কারণে স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, বন্ধু বা সহকর্মীর সম্পর্ক নষ্ট হয়।
৩. আত্মিক ক্ষতি: হাদিসে আছে—কিয়ামতের দিন গীবতকারীর নেক আমল ভুক্তভোগীর নামে লেখা হবে।
৪. মনোজগতে অস্থিরতা: গবেষণা বলছে—পরনিন্দাকারী মানুষ নিজের ভেতরেও অস্থিরতা, ভয় এবং হীনমন্যতায় ভোগে।
৫. সমাজে সংঘর্ষ বৃদ্ধি: কথার বিকৃত রূপ ছড়িয়ে মানুষের মাঝে অকারণ শত্রুতা তৈরি হয়।

গীবত বৈধ হওয়ার ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র

ইসলাম বাস্তবসম্মত। তাই কিছু ক্ষেত্রে গীবত বলা বৈধ:

১. অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিচার প্রার্থনা
২. সত্যভিত্তিক পরামর্শ বা মশওরা গ্রহণ
৩. কারো ক্ষতি বা প্রতারণা থেকে কাউকে সতর্ক করা
৪. অপরাধ বা জনস্বার্থের ক্ষতি রোধে সত্য প্রকাশ

এই বিধানগুলো কেবল কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ।

গীবত থেকে বাঁচার কৌশল

১. নিজের ত্রুটি নিজে দেখা ও সংশোধনের চেষ্টা করা।
২. কথোপকথনে সংযমী ও সতর্ক থাকা।
৩. গীবত চললে তা থামানোর চেষ্টা করা।
৪. আল্লাহর সামনে জবাবদিহির ভয় হৃদয়ে রাখা।
৫. সদাচরণ, ইসলামী চরিত্র ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখা।

উপসংহার

কোরআন ও হাদিসের আলোকে পরনিন্দা, গীবত এবং নামিমা মানুষের ব্যক্তিত্ব, সমাজ ও ঈমানের জন্য ভয়ংকর। ইসলামের নির্দেশ খুব পরিষ্কার—মানুষকে সম্মান দাও, তার অনুপস্থিতিতেও তার মর্যাদা রক্ষা করো, এবং সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখো। গীবত থেকে বিরত থাকা শুধু নৈতিকতার পরিচয় নয়; বরং ঈমানদারিরও অন্যতম শর্ত।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৪ অপরাহ্ণ
  • ১৬:২৪ অপরাহ্ণ
  • ১৮:০৬ অপরাহ্ণ
  • ১৯:১৯ অপরাহ্ণ
  • ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102