বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আজ এমন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বিভক্তি নয়, ঐক্যই হতে পারে জাতির মুক্তির একমাত্র পথ। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, অবিশ্বাস, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও দমননীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের আশা আজ একটাই-একটি ফ্যাসিস্টমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ। এমন প্রেক্ষাপটে জাতির সামনে এক অনন্য সম্ভাবনা জেগে উঠেছে— বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন (চরমোনাই), এনসিপি, খিলাফতে আন্দোলন, খেলাফতে মজলিস, হেফাজতে ইসলামসহ দেশের ইসলামি ও জাতীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলো যদি সত্যিকার অর্থে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে সেটিই হবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা।
এই ঐক্য কোনো ক্ষমতার সমীকরণ নয়- এটি মানুষের মুক্তির ডাক, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি। জনগণ চায় না দলীয় আধিপত্য, চায় না প্রতিহিংসার রাজনীতি। তারা চায় এমন এক দেশ, যেখানে থাকবে বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার, বিচার ও প্রশাসনে জবাবদিহিতা। ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, লুটপাট, ঘুষ ও অন্যায়ের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আবার ফিরুক ন্যায়ের পথে- এটাই আজ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।
জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে এমন এক উন্নয়নের মডেল, যা হবে সমন্বিত ও মানবিক। বিএনপি’র গণতান্ত্রিক চেতনা, জামায়াতের সামাজিক ন্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গি, চরমোনাই ও হেফাজতের নৈতিক সমাজগঠনের আহ্বান- এই মূল্যবোধগুলো যদি একসাথে কাজ করে, তবে নতুন বাংলাদেশ গড়া শুধু সম্ভব নয়, অনিবার্য। এমন ঐক্যই বন্ধ করতে পারে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য, অন্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং সমাজে ছড়িয়ে পড়া নৈতিক অবক্ষয়।
এই দেশ স্বাধীন হয়েছে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য, কিন্তু সেই মর্যাদা আজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। মানুষ কথা বলতে ভয় পায়, সত্য প্রকাশে বাধা পায়, ভোট দিতে পারে না- এই বাস্তবতা বদলাতে হলে চাই ঐক্য, সাহস এবং দেশপ্রেম। যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে বাংলাদেশ আবারও ফিরে পাবে তার হারানো মর্যাদা।
একটি ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ মানে কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, এটি সামাজিক ও নৈতিক মুক্তির প্রতীক। যখন সব দল মিলে অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তখন মুছে যাবে জুলুম, দমন, দুর্নীতি ও বৈষম্যের সব চিহ্ন। জনগণ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার। রাষ্ট্র হবে জনগণের সেবক, শাসক নয়।
আজ সময় এসেছে ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় অহংকার ও ক্ষমতার লোভ ভুলে দেশের স্বার্থে এক হওয়ার। ইতিহাস সাক্ষী, ঐক্যবদ্ধ জাতি কখনো পরাজিত হয় না। বাংলাদেশের প্রতিটি সৎ, সুশীল ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের কাছে তাই আজকের আহ্বান-
চলুন, একসাথে গড়ি এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে ন্যায়, শান্তি, মর্যাদা ও সমৃদ্ধি।
একটি দেশ যেখানে মানুষ গর্ব করে বলতে পারবে-
এটাই আমার বাংলাদেশ, ন্যায় ও স্বাধীনতার সোনার বাংলাদেশ।