নিজস্ব প্রতিনিধি :
আমেরিকা প্রবাসীর জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রাজউকের প্ল্যান বহির্ভুত ৪র্থ তলা ভবন নির্মাণ। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা সদলবলে দেশ ছেড়ে পালালেও এখনও বীর দর্পে রাজধানীর কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের দোসরেরা পরের জায়গা জমি জোরপূর্বক দখল করে উল্লাস করে বেড়াচ্ছেন। এমনই এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে রামপুরা টিভি ভবনের বীপরিতে হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকায়। বিগত ১৫/৭/২০২৩ সকাল ১০ ঘটিকার সময় ‘ডিবি হারুন’ এর শ্যালক আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ হোসেন প্রায় ২ শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমেরিকা প্রবাসী নাজমা আক্তার চৌধুরীর প্রায় ৪ ফুট জাগায় দখল করে অবৈধভাবে দেওয়াল নির্মাণ করেছেন। শুধু তাই নয় রাজউকের প্ল্যান বহির্ভুত ৪র্থ তলা ভবন নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করে নিজেদেরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী প্ল্যান বহির্ভূত ভবনের ফ্লোরগুলো ভেঙ্গে দিয়ে প্রতিবেশিদের রক্ষা করার জন্য রাজউকে আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজউকের অথোরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানিয়েছেন, ৪৩৪/৩/২ পশ্চিম রামপুরা, হাতিরঝিল, ঢাকা- ১২১৯ ঠিকানার ভবনটি (মাহামুদা ভিলা) ০৪ (চার) তলার প্ল্যান বিশিষ্ট রাজউক কর্তৃক ১৯৯১ সালের নকশার অনুমোদিত প্ল্যানের ভিত্তিতে ১৯৯৯ সালে দুইতলা একটি ভবন তৈরি হয়। ঐ ভবনটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এই জরাজীর্ণ ভবনটি বর্তমান মালিক ২০২৪ সালের প্রথম দিকে ক্রয় করেন ও ধীরে ধীরে ০৪ (চার) তলা সম্পন্ন করেন। এরপর ০৫ (পাঁচ) তলা এবং এখন ০৬ (ছয়) তলা সম্প্রসারণ করা শুরু করলে, স্থানীয় জনগণ ভীত হয়ে পড়েন। কারণ, পাশের ০৭ (সাত)টি ভবনের বাসিন্দা ও এলাকার জনগণসহ একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যাতায়াতের রাস্তার মুখেই ভবনটির অবস্থান। এছাড়াও ভবনটির দেয়ালে ফাটলের মতো দেখা যাচ্ছে, যা এলকাবাসীকে আরো ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলছে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, উক্ত ভবনটির ০৬ (ছয়) তলার ছাদ নির্মাণের পূর্বে গত ০৪/০৩/২০২৫ ইং রাজউকের যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর বিস্তারিত জানিয়ে একটি আবেদন উপস্থাপন করে, ভবনটির সম্প্রসারণ বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়। ছাদ ঢালাইয়ের পরিকল্পনা অনুভব করে আবেদনটির উপর গৃহীত কার্যক্রম জানতে ১০/০৩/২০২৫ ইং তারিখে রাজউকে খোঁজ-খবর নিতে গেলে পরিচালক অথোরাইজ অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন সাহেবকে ফোন করে এলকাবাসীর আবেদনটির উপর গৃহীত কার্যক্রম জানতে ১০/০৩/২০২৫ ইং (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ- ০২) বেশ কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট অথোরাইজ অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন সাহেবকে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই দিনে পরিদর্শক সুমন নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। এলকাবাসী রাজউকের এই তৎপরতায় অত্যাধিত সন্তুষ্ট হয়।
অন্যদিকে, কাজ বন্ধ থাকলেও ১২/০৩/২০২৫ ইং তারিখ থেকে উক্ত ভবন মালিক গোপনে পুনরায় রড বাধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৩/০৩/২০২৫ ইং তারিখে পরিদর্শক সুমন সাহেবকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি।’ কোন উপায় না দেখে অথোরাইজ অফিসারের নিকট গেলে তিনি সভায় যোগদানের জন্য মূল ভবনে গেছেন বলে জানতে পারি। পরে পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ- ০২) কে একাধিকবার ফোন করলে তিনি কেটে দেন। পরবর্তীতে আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকায় আবারও ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করে বলেন, ‘আমি অন্য ফোনে কথা বলছি।’ এরপরও ১০.৩০ ঘটিকায় আবারও তাকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করে বলেন যে, ‘আমি এখন সভায় আছি।’ আমরা অনন্যপায় হয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিব মহোদয়ের নিকট বিষয়টি অবহিত করলে তিনি উক্ত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেন ও আমাদের ‘আবেদনের ছবি হোয়ার্টসএ্যাপে পিএস এর মাধ্যমে পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ- ০২) কে প্রেরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।
একই দিন দুপুর ২.৩০ ঘটিকার দিকে একজন কর্মকর্তা পুলিশ ফোর্সসহ উক্ত ভবনের সামনে যান। উল্লেখ্য, উক্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে দুপুর ২.০০ ঘটিকার সময় ছাদ ঢালাই বন্ধ করে ঢালাইয়ের সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখে। কর্মকর্তা ৫-৭ মিনিট সেখানে অবস্থান করে ফোর্সসহ চলে গেলে পুনরায় ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে এবং ঐ দিনই ঢালাইয়ের কাজ সমাপ্ত করেছে বলে জানা গেছে।
বর্ণিত অবস্থায়, আমাদের ভয় দুর করা তথা সভারে রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনার পুনঃ আবৃত্তি না ঘটার লক্ষে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী ও অন্যান্য অবৈধ সম্প্রসারিত অংশ ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশনা প্রদানে অনুমতি প্রার্থনা করেছেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, হাতিরঝিল থানার আওতাধীন পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা জেলার বাসিন্দা। পার্শ্ববর্তী একটি ভবন, যার হোল্ডিং নম্বরঃ ৪৩৪/৩/২, পশ্চিম রামপুরা, হাতিরঝিল, ঢাকা- ১২১৯। বাড়িটির পূর্বের মালিক একেএম শাজাহান, রাজউক কর্তৃক ৪র্থ তলা ভবনের অনুমতি নিয়ে ২য় তলা নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছেন। তিনি কিছুদিন পূর্বে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের দোসর, রামপুরা থানার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আওলাদ হোসেনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী (মাহামুদা বেগম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরঃ ৬৪৪৬২৯০০৭৯) এর নিকট উক্ত ভবনটি বিক্রি করেন। মাহামুদা বেগমের স্বামীর নামঃ মোঃ আমজাদ হোসেন, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম- বাগাইয়াকান্দি, ডাকঘর- বিটি মোগলা, থানা- মুন্সিগঞ্জ সদর, জেলা- মুন্সিগঞ্জ এবং বর্তমান ঠিকানাঃ ইসলাম মেশিনারিজ, ৮০ নবাবপুর রোড, ঢাকা।
বলাবাহুল্য যে, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের দোসর আওলাদ হোসেন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন এর শ্যালক। তিনি মায়া চৌধুরী, সালমান এফ রহমান এবং এলাকার সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় গত ৫ই আগস্টের পূর্বে রাজউকের প্ল্যান বহির্ভুত ৪র্থ তলা ভবন নির্মাণ করার পরিবর্তে অবৈধভাবে ৬ষ্ঠ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এমনকি উক্ত ভবনের চতুরদিকে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার উপরে বারান্দা নির্মাণ করেন। ভবনটি পুরাতন এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান ভবন মালিক জনসাধারণের কোন প্রকার জান ও মালের নিরাপত্তার ব্যাপারে তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী রাজউক পরিদর্শন টিম পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্যও জোর দাবি জানিয়েছেন।