আলী আহসান রবি :
ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২৬:
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’-এর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা ও মিলনমেলা। আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের উদ্যোগে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গ্রামীণ সমাজ ও কৃষকের ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ জন মানুষই কোনো না কোনোভাবে কৃষি ও গ্রামের সাথে সম্পৃক্ত। তাই গ্রাম বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে, কৃষক বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে। কৃষকের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হলে আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাতে হবে। তিনি তেভাগা আন্দোলন, নীল বিদ্রোহ, ওহাবী ও ফারায়েজী আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে বাঙালি জাতির সংগ্রামী চেতনার ওপর আলোকপাত করেন।
তিনি বর্তমান সরকারের জনবান্ধব, শিক্ষা ও কৃষি সহায়ক নীতিমালার কথা উল্লেখ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় প্রতিটি পরিবারের দায়িত্বশীল নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে ২৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
যুব সমাজকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, আমাদের ২০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই তরুণ। এই বিশাল যুব সমাজকে ধ্বংসাত্মক মাদক ও হতাশা থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথাগত সার্টিফিকেটের পরিবর্তে প্রকৃত জ্ঞানভিত্তিক এবং জীবনমুখী কারিগরি শিক্ষা প্রদান করতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট দ্বিগুণ করেছে। আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহ আধুনিক প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। সম্পর্কের গভীরতা ও মূল্যবোধের প্রশংসা করে তিনি মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের এই ১০ বছরের যাত্রাকে সাধুবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব জনাব মোঃ ওবায়দুর রহমান।
বক্তারা মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনে এর পরিধি আরও বিস্তারের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ এবং মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।