ফারজানা ফারাবী, স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক আকর্ষণ। শহরের বিখ্যাত সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়ামের বিশাল গম্বুজকে অফিশিয়াল ম্যাচ বলের আদলে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে ১৭ তলা ভবনের সমান উঁচু এক বিশালাকার ফুটবল, যা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি কেড়েছে।
ভ্যাঙ্কুভারের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়ামের জিওডেসিক ডোমকে (ত্রিভুজাকার কাঠামো দিয়ে নির্মিত বিশেষ ধরনের গম্বুজ) সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের নকশায়। ফলে পুরো স্থাপনাটি এখন দূর থেকে বিশাল এক ফুটবলের মতো দেখাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ধারণা এসেছিল প্রায় দুই বছর আগে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক শহর হিসেবে ভ্যাঙ্কুভার কীভাবে নিজেদের আলাদাভাবে তুলে ধরতে পারে—এ নিয়ে কথোপকথনের এক পর্যায়ে সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের গোলাকার গম্বুজকে ফুটবলের রূপ দেওয়ার প্রস্তাব আসে। শুরুতে বিষয়টি রসিকতা মনে হলেও পরে অ্যাডিডাস, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সরকারি সহায়তায় সেই ধারণাই বাস্তবে রূপ পায়।
বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। স্টেডিয়ামের কাছেই অবস্থিত সায়েন্স ওয়ার্ল্ড, তাই এটিকে বিশ্বকাপের প্রতীকী আকর্ষণে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৮৬ সালের ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারের জন্য নির্মিত এই রুপালি গম্বুজটির কোনো আধুনিক ডিজিটাল নকশা ছিল না। প্রকৌশলীদের ভরসা ছিল শুধু স্থপতি ব্রুনো ফ্রেস্কির হাতে আঁকা পুরোনো ব্লুপ্রিন্ট।
পরে লেজার প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করে গম্বুজটির প্রতিটি অংশের নিখুঁত পরিমাপ নেওয়া হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিটি প্যানেলের আকারে সামান্য হলেও পার্থক্য রয়েছে। এরপর তীব্র বাতাস সহনীয় বিশেষ নমনীয় রঙিন প্যানেল তৈরি করে নম্বর অনুযায়ী একে একে পুরো গম্বুজে স্থাপন করা হয়। এভাবেই গম্বুজটি রূপ নেয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবলসদৃশ স্থাপনাগুলোর একটিতে।
বিশ্বকাপের লোগো ও ট্রফির নকশা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ক্যামেরার একটি ফ্রেমেই সায়েন্স ওয়ার্ল্ড, বিসি প্লেস স্টেডিয়াম, শহরের স্কাইলাইন, জলরাশি এবং পেছনের পাহাড় একসঙ্গে ধরা পড়ে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুধু বাইরেই নয়, মিউজিয়ামের ভেতরেও রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন। জুরিখের বাইরে প্রথমবারের মতো এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফিফার ‘সকার অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রদর্শনী। পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে কানাডার ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্মারক। এর মধ্যে রয়েছে টোকিও অলিম্পিকে ক্রিস্টিন সিনক্লেয়ারের পরা স্বর্ণপদকজয়ী ম্যাচের জার্সি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আলফোনসো ডেভিসের করা ঐতিহাসিক গোলের বল।