আলী আহসান রবি :
ঢাকা, পহেলা মে, ২০২৬ (শুক্রবার):
বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে, বৌদ্ধ সম্প্রদায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। আমরা যে যে ধর্ম মতের হই না কেন আমরা একসাথে এই বাংলাদেশকে পড়বো। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়বো। এটাই তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা। বাংলাদেশের সকল নাগরিকের প্রত্যাশা। মত-ভিন্নমত সবকিছু নিয়েই আমরা একসাথে চলবো।’
বৌদ্ধ ধর্ম সবসময় শিক্ষা সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই বাংলা অঞ্চলে অনেক বিহার ছিল। বৌদ্ধ ধর্ম সবসময় শিক্ষা সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। সেই ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে আমাদের ধারণ করতে হবে। এসব আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। বৌদ্ধ বিহার ধর্মকেন্দ্র বা প্রার্থনা কেন্দ্র হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সামাজিক সংহতি ও ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।’
গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা এখনো প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘গৌতম বুদ্ধ যে অহিংসার বাণী প্রচার করেছিলেন তা আজকের বিশ্বে ও আজকের বাংলাদেশে খুবই প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধপরিস্থিতি চলছে। হানাহানি, ঘৃণা, সাম্প্রদায়িকতা এসবের ঊর্ধ্বে উঠে গৌতম বুদ্ধ অহিংসা এবং শান্তির বাণী প্রচার করেছিলেন। আমাদের বিশ্বাস, তাঁর শিক্ষা বিশ্ব নেতৃত্ব এটা হলো করবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, আন্তর্জাতিক এই বৌদ্ধবিহারকে আরও কিভাবে সমৃদ্ধ করা যায়, অবকাঠামো সহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করবেন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বক্তব্য দেন।